
শুরু হয়েছিল একটি সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ থেকে, যেটি একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে পরিবেশ তৈরী করেছিল।
আন্দোলন কিছুদিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে—“Gen Z” নাম ধরে — যেখানে তরুণরা রাস্তায় নামে, নাগরিকরা তাদের ঘরবাড়ি, সরকারি ও রাজনৈতিক ভবন লক্ষ্য করে প্রতিবাদে অংশ নেয়।
উত্তেজনা পৌঁছে যায়; পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, নিরাপত্তা বাহিনী রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে, অনেকই আহত হয়, কিছু মৃত্যুও হয়।
সরকার পতন ও নতুন সরকার গঠন
এই আন্দোলন শেষে, প্রধানমন্ত্রী কে.পি. স্মার্ধা ओली পদত্যাগ করেন।
প্রায় পরের দিনই সুশীলা কার্কি, নেপালের প্রাক্তন বিচারপতি ও সর্বপ্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে, প্রেসিডেন্ট রম চন্দ্র পাওদেল কর্তৃক আদালতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শপথ গ্রহণ করেন।
সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত হয় ২০২৬ সালের ৫ মার্চ।
শপথ গ্রহণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম নির্দেশিকাসমূহ
শপথ গ্রহণ হয়েছিল প্রেসিডেন্ট প্যাদেল কর্তৃক, অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয় রাস্তাঘাটে ধ্বংসপ্রাপ্ত “ছিটাল নিভাস” প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনের সামনে থেকেই।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় হাই-প্রোফাইল কিছু নাম স্থান পেয়েছে, যারা সরকারের রাজনীতিতে পরিচিত সন্দেহ কম, দুর্নীতি বিরোধী বিদ্বত্তা আছে:
1. রামেস্বর প্রসাদ খানাল (Finance Minister) — প্রাক্তন অর্থ সচিব, অর্থনীতিতে সংস্কার বিধানের অভিজ্ঞ।
2. কুলমান ঘিসিং (Energy Minister) — বিদ্যুৎ ও সুবিধাদি ব্যবস্থাপনায় পরিচিত, লোডশেডিং সমস্যা মোকাবেলায় তার কাজের রেকর্ড আছে।
3. ওম প্রকাশ আর্য্যাল (Home Minister) — মানবাধিকার আইনজীবী, জন-নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কাজ করে আসছেন।
তার সরকার “দুর্নীতি বন্ধ করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, ও আর্থ-সামাজিক সমতার দিকে কাজ করা” এই লক্ষ্যগুলির কথা উচ্চারণ করেছে এবং জনতার অভাবনীয় আস্থা ফেরত আনতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে।
বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি ও প্রতীকী পদক্ষেপ
কার্কি ঘোষণা করেছেন, যারা আন্দোলনে নিহত হয়েছেন তাদের “শহীদ” বা মার্টির মর্যাদা দেওয়া হবে।
নিহত পরিবারের প্রতি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
নিচের বিষয়গুলো ভালোভাবে না মোকাবিলা করলে অন্তর্বর্তী সরকারের এই শুরুটা দ্রুত ধূলিসাৎ হতে পারে:
নির্যাতন, দমন ও বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতার অভাব: আন্দোলন চলাকালীন ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং দোষীদের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। জনতার অভিযোগ রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরঞ্জিতভাবে কাজ করেছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি: দোকানপাট ধ্বংস, অবকাঠামোগত ক্ষতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা। যৌবন অর্থনীতি চাহিদা রাখে, আর তাৎক্ষণিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বড় পরিকল্পনা দরকার।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক উত্তরণ: নির্বাচন নষ্ট হবে না, স্বচ্ছভাবে হবে কি না, পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যেস পরিবর্তন হবে কি না, তা দেখার বিষয়।
সাধারণদের আস্থা ও অংশগ্রহণ: সরকারের সিদ্ধান্ত, বিষয়গুলি খোলাখুলিভাবে আলোচনা করা হবে কি না, Gen Z ও আন্দোলনকারীদের কথা শোনা হবে কি না—এই জিনিসগুলো আস্থা গড়তে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
নেপালের এই মুহূর্তটা শুধু ক্ষমতার বদল নয়—এটা একটি সুযোগ, একটি পরীক্ষা।
সুশীলা কার্কির শপথ গ্রহণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রমাণ করে যে, মানুষের শব্দ উঠতে পারে, পরিবর্তন আসতে পারে। সাহস ছিল, জনআন্দোলন ছিল, দাবি স্পষ্ট ছিল: দুর্নীতি-বিরোধ, স্বচ্ছতা, ওয়ার্থ পালন ও বিপরীতে দাঁড়ানো।
তবে এই সব শুধু শুরু; প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের মৃত্যুর ক্ষত, সরকারি দোষগুলো, ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও দমন নীতি—এসবের বিচার হবে সময়ের ফাঁকে।
নেপাল এখন একটি নতুন অধ্যায়ের মুখে। যদি প্রশাসন, রাজনীতি ও জনগণ মিলেমিশে কাজ করতে পারে, তবে এই অধ্যায় হবে পরিবর্তনের ইতিহাসের একটি স্থায়ী পাতা।
“Disclaimer: This content is for educational and informational purposes only. Sources are based on publicly available data and knowledge.”