RSS ও পরিবেশ রক্ষা

ভূমিকা

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) শুধু সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কাজেই সীমাবদ্ধ নয়—তারা পরিবেশ রক্ষাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। গাছ লাগানো, জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক বর্জন—এ ধরনের কার্যক্রম তারা দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতি রক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ-সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

১. গাছ লাগানো ও সবুজায়ন

RSS সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে।

প্রতি বছর বর্ষার সময় লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়।

প্রতিটি স্বয়ংসেবক অন্তত ৫টি গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন।

শুধু গাছ লাগিয়েই নয়—গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত তার পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণও করা হয়।
এতে গ্রাম ও শহরের পরিবেশ ধীরে ধীরে উন্নত হয়।

২. জল সংরক্ষণ ও নদী পরিষ্কার

ভবিষ্যতে জল সংকটের আশঙ্কা বিবেচনায় RSS জল সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

গ্রামে পুকুর খনন ও সংস্কার (অমৃত সরোবর প্রকল্পে সহায়তা) করা হয়।

গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা প্রভৃতি নদী পরিষ্কারকরণ ও সচেতনতা ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

মানুষকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পদ্ধতি শেখানো হয়।
ফলে গ্রামের জলব্যবস্থা ও পানির প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।

৩. প্লাস্টিক কমানোর প্রচার

প্লাস্টিক পরিবেশের বড় ক্ষতি করে—এ কারণে RSS নিজ নিজ শাখা ও সমাজে প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে প্রচার চালায়।

কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়াতে বলা হয়।

বাজারে গেলে নিজের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্লাস্টিক বর্জ্য না ছড়ানোর জন্য সচেতনতা গড়ে তোলা হয়।
এর ফলে ধীরে ধীরে পরিবেশ দূষণ কমে।

৪. গোরক্ষা ও জৈব চাষ

RSS-এর মতে পরিবেশ, গরু ও কৃষি—এই তিনটি পরস্পর সম্পর্কিত। তাই তারা প্রচার করে—

গোবর ও জৈব সার ব্যবহার

রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো

দেশী গরু সংরক্ষণ

কৃষকদের জৈব চাষ শেখানো
এই পদ্ধতি জমির উর্বরতা বাড়ায় এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক হয়।

৫. পরিবেশ শিক্ষা ও ক্যাম্প

RSS সারা বছর বিভিন্ন পরিবেশ-সংক্রান্ত কর্মসূচি আয়োজন করে—

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

বন মহোৎসব

স্কুল–কলেজে সচেতনতা ক্লাস

ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ শিক্ষা
এতে ছোট থেকে বড়—সবাই সহজেই পরিবেশের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

৬. বিশেষ সংগঠন

পরিবেশ নিয়ে RSS-এর কিছু বিশেষ সংগঠন রয়েছে—

পর্যাবরণ গতিবিধি (RSS-এর পরিবেশ বিভাগ)

বিভিন্ন নদী রক্ষা কমিটি

বনবাসী কল্যাণ আশ্রম (আদিবাসী এলাকায় বন, নদী ও মাটি রক্ষা কার্যক্রম)

উপসংহার

স্বয়ংসেবকরা পরিবেশকে শুধু সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখেন না—তাদের মতে, এটি ধর্ম, সংস্কৃতি ও মানবিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গাছ লাগানো, জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক বর্জন, জৈব চাষ—এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা প্রকৃতি রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছেন।

যদিও আরও স্বচ্ছ তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিশ্লেষণ প্রয়োজন, তবুও বলা যায়—
ভারতজুড়ে পরিবেশ সংরক্ষণে স্বয়ংসেবকরা একটি সক্রিয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করছে।

Jana Sambvad, Kendra
স্বয়ংসেবক

Curtsey to: Real owner Image

Comments

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started