ঈশ্বরে বিশ্বাস, কুসংস্কারের অন্ধকার : যুক্তি, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার আলো

আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে মানুষ একদিকে যেমন জ্ঞানের অগ্রগতিতে এগোচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি কুসংস্কারের অন্ধকারেও ডুবে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঈশ্বরে বিশ্বাস এক জিনিস—আর কুসংস্কার সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু অনেকেই এই দুটিকে এক করে দেখেন। ফলস্বরূপ, সত্য ধর্মীয় দর্শনের বদলে অন্ধ বিশ্বাস সমাজে জায়গা করে নেয়।

🪔 ঈশ্বরে বিশ্বাস বনাম কুসংস্কার
ঈশ্বরে বিশ্বাস মানে আস্থা, শক্তি ও নৈতিকতার উপর ভরসা। অন্যদিকে কুসংস্কার মানে অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক ও শাস্ত্রবিরোধী প্রথা। যেমন—শাস্ত্রে কোথাও বলা হয়নি যে শুধু কোনো অন্ধ আচার বা টোটকা মেনে চললেই ভাগ্য বদলে যাবে। অথচ সমাজে অনেকেই এই ভ্রান্ত ধারণায় ভেসে যান।

۞ শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা: কর্মই মূল
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-য় শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট করে বলেছেন—
“কর্ম করো, ফলের আসক্তি রেখো না।”
এখানেই আসল শিক্ষা। ভাগ্য বদলানোর একমাত্র উপায় সৎকর্ম, অধ্যবসায় ও অর্থপূর্ণ জীবনচর্চা। কিন্তু মানুষ যখন কুসংস্কারে ডুবে যায়, তখন তারা সহজ পথ খোঁজে—যা প্রকৃত ধর্ম নয়, বরং দুর্বল মানসিকতার প্রতিফলন।

➤ সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, একজন ছাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল চায়। যদি সে পড়াশোনা না করে কেবল কোনো টোটকার উপর নির্ভর করে, তবে কি সে সফল হবে❓ উত্তর স্পষ্ট—না। কিন্তু যদি সে নিয়মিত অধ্যয়ন করে, সৎভাবে চেষ্টা করে, তবে অবশ্যই সফলতার সম্ভাবনা বাড়বে। ঈশ্বর তখন তার শক্তি ও সাহস বাড়িয়ে দেবেন।

✶ আধ্যাত্মিক ও মানসিক শান্তি
আমি নিজেও একসময় হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগেছি। কিন্তু ধ্যান, প্রার্থনা ও কর্মের পথে চলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অন্ধকার কেটে যায়। তখন বুঝেছি—আসল শক্তি ভেতরে লুকানো, সেটিকে জাগিয়ে তোলার জন্য দরকার ঈশ্বরে বিশ্বাস আর সৎকর্মের সাধনা, কুসংস্কার নয়।

✵ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি
কুসংস্কার মানুষকে দুর্বল করে, ভয় দেখায়, সংকীর্ণ করে। কিন্তু ঈশ্বরে বিশ্বাস মানুষকে সাহসী করে, যুক্তির পথে দাঁড়াতে শেখায়। বিশ্বাস হলো আলো, কুসংস্কার কেবল অন্ধকার। একদিকে যুক্তি, বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের নির্দেশ; অন্যদিকে অযৌক্তিক অন্ধপ্রথা। বেছে নেওয়ার দায়িত্ব মানুষের।

★ সমাপ্তি ভাবনা
আজকের সমাজে আমাদের প্রয়োজন এমন ধর্মচর্চা যা যুক্তি, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শিখিয়েছেন—ভাগ্য গড়ে কর্ম, অন্ধ বিশ্বাস নয়। তাই আসুন, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি, সৎকর্মে আস্থা রাখি এবং কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে দূরে থাকি।

✍🏻 লিখেছেন:
আশীষ চক্রবর্তী, MSW (Human Rights Specialisation), MA (Political Science), স্বেচ্ছাসেবক, লেখক, ব্লগার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা।

Comments

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started