ভারতে ভিক্ষাবৃত্তি : শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই
আমি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি—স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মন্দির কিংবা রাস্তাঘাটে অসহায় মানুষদের পাশাপাশি শিশুদেরও ভিক্ষা করতে দেখা যায়। প্রতিবার এই দৃশ্য চোখে পড়লে গভীর বেদনা অনুভব করি। বিশেষ করে শিশু ভিক্ষাবৃত্তি, যা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং আমাদের সমাজের মানবিকতার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রথার কঠোর বিরোধী এবং বিশ্বাস করি, এর বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংখ্যার আয়নায় বাস্তবতা
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, ভারতে ভিক্ষুকের সংখ্যা প্রায় ৪.১৩ লক্ষ। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই আছে প্রায় ৮১ হাজারের বেশি। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা যে আরও অনেক বেশি, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতেই স্পষ্ট। সবচেয়ে বড় আঘাতের বিষয় হলো, এই ভিক্ষুকদের মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে, যারা স্কুলে থাকার পরিবর্তে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছে।
মূল কারণসমূহ
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব
পরিচয়পত্র ও সামাজিক সুরক্ষার অভাব
সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তি চক্র ও শিশু পাচার
শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া
সরকারি উদ্যোগ ও সীমাবদ্ধতা
কেন্দ্রীয় সরকারের SMILE Scheme (২০২৩–২০২৬) এর মাধ্যমে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, পরিচয়পত্র প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারিবারিক পুনর্মিলন শুরু হয়েছে। দিল্লি ও মাদুরাইয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এর ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু শিশু ভিক্ষাবৃত্তি রোধে এখনো প্রয়োজন আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।
আমাদের করণীয়
১. শিশু ভিক্ষুকদের উদ্ধার করে অবিলম্বে শিক্ষার আওতায় আনা।
২. ভিক্ষাবৃত্তির চক্র ভেঙে ফেলার জন্য কড়া আইন প্রয়োগ।
৩. এনজিও, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি—রাস্তার ভিক্ষুককে নয়, পুনর্বাসন কেন্দ্রে দান করা।
৫. শিশুদের জন্য skill training ও পরিপূর্ণ বিদ্যালয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
শেষকথা
একটি শিশু যখন ভিক্ষার থালা হাতে দাঁড়ায়, তখন শুধু তার শৈশবই নয়, আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে ঢেকে যায়। “ভিক্ষুকমুক্ত ভারত” মানে ভিক্ষুককে অদৃশ্য করা নয়, বরং তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—শিশু ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব, আর এই সংগ্রাম মানবিক ভারতের জন্য অপরিহার্য।