নেপাল: স্বপথ-গ্রহণের মুহূর্ত ও একটি রূপান্তরের সূচনা

২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, নেপালে শুরু হয় “Gen Z” আন্দোলন — তরুণ প্রজন্মের প্রতিক্রিয়া সরকারের সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং সুযোগের অভাবে। এই বিক্ষোভ দ্রুত টানা হয় রাজনৈতিক ও জনসংহতির গভীর সংকটের দিকে।

আড়িত সংকট থেকে উত্তেজনায়
শুরু হয়েছিল একটি সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ থেকে, যেটি একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে পরিবেশ তৈরী করেছিল।

আন্দোলন কিছুদিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে—“Gen Z” নাম ধরে — যেখানে তরুণরা রাস্তায় নামে, নাগরিকরা তাদের ঘরবাড়ি, সরকারি ও রাজনৈতিক ভবন লক্ষ্য করে প্রতিবাদে অংশ নেয়।

উত্তেজনা পৌঁছে যায়; পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, নিরাপত্তা বাহিনী রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে, অনেকই আহত হয়, কিছু মৃত্যুও হয়।


সরকার পতন ও নতুন সরকার গঠন

এই আন্দোলন শেষে, প্রধানমন্ত্রী কে.পি. স্মার্ধা ओली পদত্যাগ করেন।

প্রায় পরের দিনই সুশীলা কার্কি, নেপালের প্রাক্তন বিচারপতি ও সর্বপ্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে, প্রেসিডেন্ট রম চন্দ্র পাওদেল কর্তৃক আদালতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শপথ গ্রহণ করেন।

সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত হয় ২০২৬ সালের ৫ মার্চ।


শপথ গ্রহণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম নির্দেশিকাসমূহ

শপথ গ্রহণ হয়েছিল প্রেসিডেন্ট প্যাদেল কর্তৃক, অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয় রাস্তাঘাটে ধ্বংসপ্রাপ্ত “ছিটাল নিভাস” প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনের সামনে থেকেই।

নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় হাই-প্রোফাইল কিছু নাম স্থান পেয়েছে, যারা সরকারের রাজনীতিতে পরিচিত সন্দেহ কম, দুর্নীতি বিরোধী বিদ্বত্তা আছে:

1. রামেস্বর প্রসাদ খানাল (Finance Minister) — প্রাক্তন অর্থ সচিব, অর্থনীতিতে সংস্কার বিধানের অভিজ্ঞ।


2. কুলমান ঘিসিং (Energy Minister) — বিদ্যুৎ ও সুবিধাদি ব্যবস্থাপনায় পরিচিত, লোডশেডিং সমস্যা মোকাবেলায় তার কাজের রেকর্ড আছে।


3. ওম প্রকাশ আর্য্যাল (Home Minister) — মানবাধিকার আইনজীবী, জন-নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কাজ করে আসছেন।



তার সরকার “দুর্নীতি বন্ধ করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, ও আর্থ-সামাজিক সমতার দিকে কাজ করা” এই লক্ষ্যগুলির কথা উচ্চারণ করেছে এবং জনতার অভাবনীয় আস্থা ফেরত আনতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে।


বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি ও প্রতীকী পদক্ষেপ

কার্কি ঘোষণা করেছেন, যারা আন্দোলনে নিহত হয়েছেন তাদের “শহীদ” বা মার্টির মর্যাদা দেওয়া হবে।

নিহত পরিবারের প্রতি আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।


বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

নিচের বিষয়গুলো ভালোভাবে না মোকাবিলা করলে অন্তর্বর্তী সরকারের এই শুরুটা দ্রুত ধূলিসাৎ হতে পারে:

নির্যাতন, দমন ও বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতার অভাব: আন্দোলন চলাকালীন ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং দোষীদের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। জনতার অভিযোগ রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরঞ্জিতভাবে কাজ করেছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি: দোকানপাট ধ্বংস, অবকাঠামোগত ক্ষতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা। যৌবন অর্থনীতি চাহিদা রাখে, আর তাৎক্ষণিক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বড় পরিকল্পনা দরকার।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক উত্তরণ: নির্বাচন নষ্ট হবে না, স্বচ্ছভাবে হবে কি না, পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যেস পরিবর্তন হবে কি না, তা দেখার বিষয়।

সাধারণদের আস্থা ও অংশগ্রহণ: সরকারের সিদ্ধান্ত, বিষয়গুলি খোলাখুলিভাবে আলোচনা করা হবে কি না, Gen Z ও আন্দোলনকারীদের কথা শোনা হবে কি না—এই জিনিসগুলো আস্থা গড়তে খুব গুরুত্বপূর্ণ।


উপসংহার

নেপালের এই মুহূর্তটা শুধু ক্ষমতার বদল নয়—এটা একটি সুযোগ, একটি পরীক্ষা।
সুশীলা কার্কির শপথ গ্রহণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রমাণ করে যে, মানুষের শব্দ উঠতে পারে, পরিবর্তন আসতে পারে। সাহস ছিল, জনআন্দোলন ছিল, দাবি স্পষ্ট ছিল: দুর্নীতি-বিরোধ, স্বচ্ছতা, ওয়ার্থ পালন ও বিপরীতে দাঁড়ানো।

তবে এই সব শুধু শুরু; প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের মৃত্যুর ক্ষত, সরকারি দোষগুলো, ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও দমন নীতি—এসবের বিচার হবে সময়ের ফাঁকে।

নেপাল এখন একটি নতুন অধ্যায়ের মুখে। যদি প্রশাসন, রাজনীতি ও জনগণ মিলেমিশে কাজ করতে পারে, তবে এই অধ্যায় হবে পরিবর্তনের ইতিহাসের একটি স্থায়ী পাতা।

২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, নেপালে শুরু হয় “Gen Z” আন্দোলন — তরুণ প্রজন্মের প্রতিক্রিয়া সরকারের সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং সুযোগের অভাবে। এই বিক্ষোভ দ্রুত টানা হয় রাজনৈতিক ও জনসংহতির গভীর সংকটের দিকে।

Design a site like this with WordPress.com
Get started